Showing posts with label গল্প. Show all posts
Showing posts with label গল্প. Show all posts

বৃষ্টি মুখর দিনে-কানিজ ফাহিমা



১)

মুশল ধারে বৃষ্টি হচ্ছে বন্যা নিঃশব্দে অভির পাশে হাটছে তাদের কারও মুখে কোন কথা নেই বৃষ্টির টুপটাপ শব্দে যেন চারিদিক মুখর হয়ে রয়েছে অভির মনটা আজ অনেক বেশি ভাল অনেক প্রতিক্ষার পর বন্যা অবশেষে তাকে সেই অপ্রতাশিত কথাটি বলেছে যা শোনার জন্য সে ব্যাকুল হয়ে ছিল "ভালবাসি তোমায় " এই ছোট্ট কথাটি সে কখনোই বলতে পারেনি কিন্তু কত সহজে বন্যা তা বলে দিল খুশিতে অভির নাচতে ইচ্ছা করছে কিন্তু রাস্তার মাঝেতো তা সম্ভব না তাই ঠিক করল দুজনে এ আনন্দটাকে বৃষ্টিতে ভিজে উপভোগ করবে বন্যা খুব ছটফটে আর প্রানবন্ত একটা মেয়ে অনর্গল কথা বলা,কথার মাঝে দু হাত নেরে মাথা নেরে কথা বলা তার চিরাচারিত স্বভাব আর যা ছাড়া সে অসম্পূর্ন তা হলো বন্যার দু'গালে টোল পরা হাসি টোল পরা মেয়েদের যেন একটু বেশি সুন্দর লাগে বন্যাকে দেখবার জন্য অভি কত কি না করেছে কলেজে সবার
চোখ এড়িয়ে লুকিয়ে বন্যাকে দেখা , কলেজে আসা যাওয়ার পথে চায়ের কানে দাড়িয়ে থেকে ঘন্টার পর ন্টা অপেক্ষা করা কখন বন্যা আসবে আর কখন সে এক নজর তাকে দেখতে পাবে এই আশায় দাড়িয়ে থাকা বন্যাকে দূর থেকে দেখেই যেন শান্তি তার বন্যার ধারে কাছে কখনও সে যেত না কেন সে বন্যার সামনে যেতে এতো ভয় পায় তা সে নিজেও জানে না ওর সব বন্ধুরাই বন্যার কথা জানে এমন কি বন্যাও জানে অভি তাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখে ওর বান্ধবিরা তো অভিকে নিয়ে অনেক খেপায় বন্যা বুঝতে পারে না অভি যদি সত্যি তাকে ভালবাসে তাহলে কেন সাহস করে তাকে ভালবাসার কথা জানাতে পারে না এদিকে অভি ভয় পায় যদি বন্যা তাকে না করে দেয়
তাহলে সে কি করবে এই ভয়ে সে কখনও বন্যার সামনা সামনি হয় না যাকে এত দিন ভয় পেয়ে এসেছে সেই বন্যাই আজ তাকে ভালবাসি কথাটা বলেছে ভাবতেই অভি আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাচ্ছে এতো আনন্দের মাঝে হঠাৎ অভি লক্ষ্য করে বন্যা কোন কথা বলছে না যে জিনিসটা তার মাথায় আসছে না তা হলো এত দুরন্ত মেয়েটার হঠাৎ কি হল ? পাশে হাঁটছে কিন্তু তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না অভি আড় চোখে বারবার বন্যাকে দেখছে কেমন জানি অচেনা অচেনা লাগছে তাকে


২)

এ দিকে বন্যা মনে মনে ভাবে কি হাদা রামরে পাশে হাটছে কিন্তু একটা কথা পর্যন্ত বলছে না বন্যার অনেক মেজাজ খারাপ হচ্ছে এই ছেলে নাকি তাকে ভালবাসে? হ্যাঁ বলার পরেও যে ছেলে কথা বলার সাহস পায় না সে নাকি ভালবাসে তাকে ? এই মেন্তাকে ঠিক করতে যে কত বছর লাগবে সেটাই ভাবছে সে অবশ্য অভির এই লাজুক লাজুক
চেহারাটা তার বেশ ভাললাগে অনেক আগে থেকেই তবে ভালবাসে কি না ঠিক বুঝে উঠবার আগেই ঘটে এক ভয়ংকর ঘটনা বন্যার চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই সব
ঘটনা গুলি ।।।।।।।

-জানিস অভি ভাই নাকি কাকে প্রপোজ করেছে
-তো আমি কি করব ?
-সত্যি তুই ভাইয়াকে পছন্দ করিস না ?
-না
যে ভালবাসে কিন্তু সামনে এসে ভালবাসি এটা বলার সাহস রাখে না এমন হাবলুসকে আমি ভালবাসব হুহ বলে বন্যা তিসার কাছ থেকে বিদায় নেয় তিসা হচ্ছে বন্যার খুব কাছের বন্ধু বন্যার জন্য সে যে কোন কিছু করতে পারে তিসার কাছে এসব শুনে বন্যা সোজা বাসায় চলে আসে বাসায় এসে বন্যা রেগে ব্যাগ ছুড়ে ফেলে দেয় অভির উপরের রাগ সব গিয়ে পরে ব্যাচারা ব্যাগের উপর মনে মনে সে বলতে থাকে, কত্তো বড় সাহস আরেক জনকে প্রপোজ করে হাবলুসটা আমাকে ভালবাসার কথা বলতে পারেনা সে কিনা আরেক জনকে ভালবাসে উফফফ ।।।।।।।।।। এতো দিন অভি তাকে ভালবাসে এটা শুনলেই বন্যা শুধু নাক শিটকাতো এমন মিনমিনে স্বভাবের যে বন্যার ধারনা এমন হাবলুস এ জগতে এক পিছই আছে আর এই হাবলুস তাকে ভালবাসে বলে হেসে উড়িয়ে দিত অথচ আজ সে অন্য কাউকে ভালবাসে এটা শোনা মাত্র তার এমন রাগ হচ্ছে কেন বুঝতে পারছে না আর কিছু ভাবতে পারছে না বন্যা দূর হাদা রাম যা ইচ্ছা তাই করুক আমার কি মনে মনে বলে সে নিজের মনকে সান্তনা দেয় যতই
এটা বলে নিজেকে সান্তনা দিক না কেন তবুও কেমন জানি এক অস্থিরতায় ভুগতে থাকে সে

৩)

বন্যা কলেজে ঢুকতে না ঢুকতেই তিসা এসে বলে,
-বন্যা এই বন্যা শুনেছিস এখন নাকি অভি ভাই ঐ মেয়ের সাথে দেখা করতে যাবে
- যাক তো আমি কি করবো?
- মেয়েটা নাকি অনেক সুন্দরী ইসসস অভি ভাইয়া আর লুকিয়ে তোকে দেখবে না তাই না বল?

কথাটা যেন বন্যার কোথাও একটু আঘাত করল বুকটার ভিতর মনে হয় কেউ
খামচি দিয়ে ধরল তার তবুও তিসাকে কিছু বুঝতে দিল
না সে শুধু বলল,
-চলতো দেখে আসি সেই সুন্দরীকে ওরা কোথায় দেখা করবে জানিস ?
- হু জানি আমাদের কলেজের পেছনে যে পুকুরটা আছে ওখানে দেখা করবে

যে কথা সেই কাজ মনে মনে যুদ্ধ ঘোষনা করে বন্যা অভিদের হাতে নাতে ধরবে বলে পুকুরের দিকে যেতে শুরু করলো তিসা বন্যার পিছু পিছু হাঁটছে আর মিটমিট করে হাসছে আকাশটা কেমন জানি হঠাৎ মেঘলা করে আসছে বন্যার মনও অভিমানের মেঘে ঢেকে গেল আকাশের আগেই সেখানে ঝড় উঠে মনটাকে উলটপালট করে দিল যাকে সে কখনো পাত্তা দেয়নি আজ তার জন্য কেন এমন হচ্ছে তা সে জানে না শুধু এখন যে জিনিস মাথায় আসছে তা হলো এই হাদ রাম অন্য কাউকে ভালবাসে তা সে মানতে পারছে না সে যেই হোক তার চুল কেটে টাক করে দিতে ইচ্ছা করছে তার মনে মনে ঐ মেয়ের ষোল গুষ্টি উদ্ধার করে সে

৪)

অভি আনমনে বসে আছে পুকুর পাড়ে এখানে যখনই আসে তার মনটা কেন জানি ভাল হয়ে যায় তাই মন খারাপ থাকলে সে এখানে চলে আসে আজ তার মন একটু বেশি খারাপ কলেজে আসতেই তাকে একজন ডাক দেয়

-অভি ভাইয়া কেমন আছেন ?
-এইতো ভাল, তুমি ?
-জী, ভালভাইয়া একটা কথা বলবো?
-অবশ্যই , বলো
-না মানে আজ
তো বন্যাকে দেখতে আসছে পাত্র
পক্ষ সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আজই
বিয়ে হবে
-কি বলছো তুমি আজই ?
- তাইতো শুনলাম

এ কথা শুনে বুকের পাজর গুলো যেন দুমরেমুচরে আসতে লাগলো মনে হচ্ছে কেউ যেন তার হৃদয়টাকে খামচি মেরে টেনে ছিড়ে আনতে চাইছে তার মুখ থেকে আর কথা বের হয়না কোন রকম চোখের পানি লুকিয়ে সে চলে আসে সেখান থেকে পুকুরের দিকে অভি হনহন করে হেঁটে যায় তিসা অভিকে দূর থেকে দেখে মুচকি একটা হাসি দেয়
অভি তা দেখতে পায় না অভির খুব ইচ্ছা ছিল পুকুর পাড়ে বন্যার সাথে বসে গল্প করবে
অনেক অনেক কথা বলবে কখনও সুখ দুঃখের কথা, কখনও ভালবাসার কথা , কখনও বা মান অভিমান করবে কিন্তু না কিছুই করা হল না তার স্বপ্ন গুলো যেন তার স্বপ্নই রয়ে গেল ভাবতে ভাবতে চোখ দুটো খুব জ্বালা করে উঠল যে ভালবাসা সে এত দিন হৃদয়ে ধারন করে এসেছে তা অঙ্কুরেই ঝরে গেল এতো কিছু ভাবতে ভাবতে যখন
সে দুঃখের অথৈ সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে ঠিক তখন কান ফাঁটা চিৎকারে ভাবনার জগৎ
থেকে বাস্তবে ফিরে আসে পিছনে তাকিয়ে দেখে বন্যা অগ্নি মূর্তি ধারন করে আছে

-এই যে কোথায় সেই রুপসি সুন্দরী কন্যা যার জন্য এখানে সেজেগুজে তার আগেই এসে বসে আছেন বন্যার কোন কোথাই যেন তার কানে পৌছাল না সে কি বলছে না বলছে তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ নেই কার সে একভাবে বন্যার দিকে তাকিয়ে আছে সে যেন দেখছে বন্যা বৌ সেজে তার সামনে দাড়িয়ে আছে
-তোমাকে বৌ সেজে অনেক সুন্দর লাগছে
-কি আমি বৌ সেজেছি চোখের মাথা খেয়েছেন নাকি ?

বন্যার চিৎকারে সে ভালভাবে তাকিয়ে দেখে লজ্জা পায় বন্যাতো বৌ সেজে নাই তাহলে সে কি দেখল ভেবে পায় না হঠাৎ মনে পরে আজতো ওর বিয়ে কিন্তু ও এখনে কি করছে অবাক হয়ে জানতে চায় বন্যার কাছে ।।

- আজ না তোমার বিয়ে ?
-আমার বিয়ে? ইয়ার্কি করছেন আমার সাথে আমার কথা এড়িয়ে যাওয়ার বুদ্ধি, তাইনা ?
আগে বলুন কাকে প্রপোজ করেছেন ? এখনে আসছেন ডেটিং করতে আবার বলা হচ্ছে আমার বিয়ে কত্ত বড় সাহস বন্যা যেন কথা গুলো এক নিঃশ্বাসে বলে যায়
-কি যাতা বলছো? আমি কেন অন্য কাউকে ।।।।। আর করলেও তোমার কি ?
-আমার কি মানে ? আমি তোমাকে ভালবাসি ।।।।।।

রাগের মাথায় বন্যা ভালবাসি কথাটা বলেই চুপ হয়ে যায় যে কথা সে এতো দিন
নিজের কাছে নিজেই স্বীকার করতো না আজ অন্য কেউ অভির জীবনে আসছে শুনে একমুহুর্তে তা বলে ফেললো নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না অভি ভালবাসি কথা শুনে অপলক তাকিয়ে থাকে বন্যার দিকে যে কথা সে এতো দিন হাজার সাহস সঞ্চয় করেও বলতে পারছিল না সে কথা বন্যা তাকে বলবে সে কল্পনাও করতে পারেনি অভি বন্যার মুখমুখি এসে দাঁড়ায়

-কি বললে? আবার বলতো
বন্যা মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে
কি বলবে বুঝতে পারছে না
-কি চুপ করে থাকবে ?
বলবেনা কি বললে এই মাত্র
-না বলব না তার আগে বলো কে সেই মেয়ে
যার সাথে এখানে দেখা করতে এসেছো
তিসা কিন্তু আমাকে সব বলেছে
তুমি অন্য কাউকে ভালবাস
-তিসা বলেছে আমি অন্য
কাউকে ভালবাসি?
অভির যেন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে
আমিতো কারও
সাথে দেখা করতে এখানে আসিনি
আমার মন খারাপ
হলে এখানে বসে থাকি আজ তোমার
বিয়ে একথা শুনে এখানে এসে বসেছি
-কি? আমার বিয়ে?
কে বলেছে তোমাকে ?
-এ কথা আমি বলেছি ভাইয়াকে বন্যা অভি দুজনেই পেছনে তাকায় দেখে তিসা মিটমিট করে হাঁসছে
-তুই এ কথা বলেছিস? কিন্তু কেন? বন্যা অবাক হয়ে জানতে চায়
-বলেছি কারন তুই আর ভাইয়া দুজন দুজনকে অসম্ভব ভালবাসিস কিন্তু কেউই কাউকে বলতে পারছিলিনা তাই এটুকু আমাকে করতেই হলো সরি ভাইয়া সরি দোস্ত ।।।।
বলেই একদৌড়ে সেখান থাকে পালিয়ে আসে বন্যার ভয়ে কারন বন্যা যে রাগি তাকে সে আস্ত রাখবে না মেরে

৫)

আকাশ কি আজ কষ্টে কাঁদছে নাকি খুশিতে বন্যা ভেবে পায় না তবে তার চোখেও এখন কাঁদছে তবে তা খুশির তিসা না থাকলে হয়তো বোঝাই হতো না আনন্দেও চোখ ভিজে ওঠে বন্যা অভির পাশে হাঁটছে আর ভাবছে এই প্রথম তিসার প্রতি তার রাগ হচ্ছে না তিসা এমন ভয়ংকর পাগলামীটা না করলে হয়তো সে কখনও বুঝতোই না অভিকে সে কতোটা ভালবাসে মনে মনে ভাবে বন্ধু তো বন্ধুই এর ঋণ কখনও শোধ করা যায় না এমন বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার তিসার কথা মনে হতেই নিজের অজান্তেই মুখে হাসি ফুটে ওঠে বন্যার অভি বন্যাকে একা একা হাসতে দেখে অবাক হয় সে আর চুপ করে থাকতে পারে না

-কি শুধু হাঁটবে? কথা বলবে না এইতো বেশ ঝগড়া করছিলে তিসা চলে যাবার পর
থেকে মুখে কথা নাই, কেন ?
-কি আমি শুধু ঝগড়া করি ? -আমি কি তাই বলেছি?
-এই মাত্রই বলেছো
- আচ্ছা আর বলবো না এই যে কান ধরেছি এবার ঠিক আছে পাগলী
-কি আমি পাগলী ? খবরদ্দার আমার পেছনে হাঁটবে না
-ঠিক আছে পেছনে না পাশে হাঁটব কেমন বলে অভি পাশে হাঁটা শুরু করল অঝোর
ধারায় বৃষ্টি ঝরছে তার মাঝেই দু'জন পাশাপাশি হাঁটছে কারো মুখে কোন কথা নাই হঠাৎ অভি আলতো করে বন্যার একটা আঙ্গুল ধরে অভি বন্যার দিকে না তাকিয়েও
বুঝতে পারে বন্যার মুখ লাল হয়ে গেছে বন্যাও কিছু না বলে তার আঙ্গুলটা শক্ত করে ধরে হাঁটতে থাকে ।।।।।।।।।।।।।।।।।।

ফেসবুক লিংক-http://www.facebook.com/kfahima2

সাকলাইন সজিব-নবু মিয়াঁর জীবন সংসার


সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠিয়া নবু মিয়াঁর মেজাজটা বিগড়াইয়ে গেল উঠানে দাঁড়াইয়া উচ্চ কণ্ঠে হাঁক-ডাক ছাড়িতে লাগিল-
~
কৈ গেলীরে ? ময়নার মা তোরে না রাইতে কইছি পান্তা রাখবার জন্যি
~
কেমনে রাখুম , রাইতে দুই ফুঁটি চাইল ছিল তাও শেষ ঘরে আর বাড়তি চাইল নাই
~
শালী , ঘরে বইসা খালি চাইল চাবাস মেশিন হইয়া গেছোস
নবু মিয়াঁ উঠানে ঠায় দাঁড়াইয়া থাকা বউয়ের চূলের গুছা ধরে হ্যাঁচকা টান দিয়ে মাটিতে ফেলিয়া মনের খেয়াল মত উহাকে চাপড়াইয়া পৈশাচিক আনন্দ লাভ করিতে উদ্যত হইতেছিল , এমতাবস্থায় ৯ বছরের মাইয়াটা চোখ মুখ কচলাইতে কচলাইতে উঠানের দিকে অগ্রসর হইল বাপ-মাইয়ার চোখা-চোখি হইতেই নবু মিয়াঁ লজ্জিত হইয়া উহাকে ছাড়িয়া দিল
~
বাপজান , তুমি আইজকাও মায়ের গায়ে হাত তুলছ ? তোমার শরম করে না ?
নবু মিয়াঁ আদরের মাইয়ার কথা শুনিয়া আরেক পশলা লজ্জিত হইল কিছু বলার মত ভাষা সে খুঁজিয়া পাইল না শুধু লজ্জায় তাহার চক্ষুদ্বয় রক্ত বর্ণ হইয়া উঠিল
~
বাপজান আইজকা কিন্তুক নুপুর কিন্যা আনন লাগব
মাইয়ার একজোড়া নুপুরের খুব শখ গরিবের ঘরে জন্মিয়াছে বলিয়া কি উহার কোন সাধ আল্লাদ থাকিতে পারে না ? নবু মিয়াঁ পরাজিত সৈনিকের মত উহার দিকে তাকাইয়া থাকিল কষ্টে তাহার ঠোঁট জোড়া কাঁপিতেছিল
হত দরিদ্র নবু মিয়াঁর সম্পত্তি বলিতে ভিটে মাটি আর বাপ-দাদার আমলের একটা কাঠের ডিঙি নৌকা যা দিয়া বরষার মৌসুমে লোকজন পারাপার করিয়া দিন যাপন করিতে হয় নদী শুঁকিয়ে আসার সাথে সাথে নবু মিয়াঁর জীবনেও খরা ডাকিয়া আনিতেছে মেজাজটাও সবসময় রুক্ষ থাকে তাই হয়তো অন্যের উপর রাগ ঝাড়িতে না পারিয়া বউকে মারিয়া মেজাজ ঠিক রাখিবার চেষ্টা দুধের সাধ ঘুলে মেটানো , আর কি ?
সেদিন গঞ্জে গিয়া মোড়ল সাহেবের নিকটে কিছু টাকা চাহিতেই তিনি একটা সাদা কাগজে টিপ সই রাখিয়া তাহাকে টাকা দিল নবু মিয়াঁ গঞ্জের দোকান থেকে একজোড়া রূপোর নুপুর খরিদ করিয়া বাড়ির পথে হাঁটা দিল মাইয়াডা নুপুর দেখিয়া কি যে খুশী হইল তা বুঝিয়ে বলা মুশকিল সারা ঘরময় নুপুরের রিনিঝিনি শব্দ বাজিতে লাগিল সেই সাথে নবু মিয়াঁর মনটাও সুখের পরশে নাচিয়া উঠিল
অভাবের সংসারে আবারও নতুন অতিথির আগমনের লক্ষণ প্রকাশ পাইতেছে নবু মিয়াঁর স্ত্রী পরিবার পরিকল্পনার এক গাদা পিল হজম করিয়াও উপর ওয়ালার ইচ্ছাকে ঠেকাইতে না পারিয়া হাল ছাড়িয়া সংসারে লোক বাড়াইবার চক্রান্ত করিতেছে দিন দিন তাহার উদর ও পিঠ ধনুকের মত বক্র হইয়া ফুলিয়া ফাঁপিয়া উঠিতেছে
সেদিন নবু মিয়াঁর মাইয়াডা নুপুরের রিনিঝিনি শব্দ তুলিয়া খাল পাঁড়ের পথে যাইতেছিল উহাকে দেখিয়া মোড়লের বখাটে ছেলেটা আশে পাঁশে লোকজন না দেখিয়া জোর করিয়া মাইয়াটাকে ধরিয়া পাশবিক নির্যাতন করিতে থাকিল , নির্যাতনের মাত্রা এতই ছিল যে মাইয়াটার নড়িবার সাহস পর্যন্ত হইল না সারা গাঁয়ে খবরটা কেমন করিয়া জানি রটিয়া গেল লজ্জা আর ঘৃণা সইতে না পারিয়া মাইয়াটা গলায় যখন দড়ি দিয়ে মারা গেল সেদিন নবু মিয়াঁ শোঁকে পাঁথর হইয়া গিয়াছিল মোড়লের লোকজন বাড়িতে আসিয়া শাসাইয়া গেল যাহাতে সে মুখ খুলিতে না পারে
দুঃখের ঘা যখন শুকানোর উপক্রম হইতেছিল তখনি আরেকটা দুরসংবাস নবু মিয়াঁর দরজায় আসিয়া কড়া নাড়িতে লাগিল নৌকার গলুইয়ের উপর বসিয়া নবু মিয়াঁ তামাক টানিতেছিল এমন মুহূর্তে ফকিরের মা আসিয়া খবর দিল যে তাহার বৌ আবারও কন্যা সন্তান প্রসব করিয়াছে নবু নিয়া নড়িল না ঠায় বসিয়া থাকিল হঠাত তাহার মথায় বিদ্যুৎ চমকাইয়া উঠিল আর সোজা বাড়ির দিকে দৌড়াইতে লাগিল বাড়িতে আসিয়া সদ্য ভূমিষ্ঠ বাচ্চাটাকে বৌয়ের কোল থেকে লইয়া তাহার উদর বরাবর একটা লাথি দিয়া নদীর দিকে দৌড়াইতে লাগিল দাঁই নবু মিয়াঁর ভাব বুঝিতে পারিয়া তাহার পিছন পিছন দৌড়াইতে লাগিল কিন্তু উহাকে আটকাইতে সমর্থ হইল না বাচ্চা টাকে লইয়া সে নৌকায় উঠিয়া মাঝ নদীর পথে যাত্রা করিল উহাকে নৌকার পাটাতনের সাথে বাঁধিয়া নৌকার মাঝখানে ছিদ্র করিয়া নিজেকে নৌকার সাথে বাঁধিয়া লইল আস্তে আস্তে নৌকায় পানি উঠিতে লাগিল আর নৌকা ডুবিয়া যাইতে থাকিল দাইয়ের হাঁক ডাকে অনেকেই নদীর পাঁড়ে জড় হইল কিন্তু নবু মিয়াঁ কাহারও ডাকে কর্ণপাত করিল না অবশেষে নৌকা মাঝ নদীতে তলাইয়া গেল সেই সাথে উপসংহার রচিত হইল নবু মিয়াঁর জীবন সংসারের  

আরিফ হোসেন জিম-মৃত্যুদন্ড

নদী মারা গেছে অনেক দিন হলকিন্তু এখন ও রাফিন নদীর কথা ভুলতে পারেনিনদী এখন ও তার স্বপ্ণে এসে ডাকে কিন্তু রাফিন সেই ডাকে সাড়া দেয় না


রাফিন মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্য ছেলেঅর্থাত্‍ মেজো ছেলে তারা তিন ভাই রাফিনের পরিবারের সবাই জানত নদীর কথা রাফিনের পরিবার নদীকে পছন্দ ও করত রাফিনের বাবা-মা কখনো রাফিনের কোন ইচ্ছা অপূর্ণ রাখে নিতেমনি এই ইচ্ছাটা ও পূরণ করার কথা ছিল ........................


নদী নামটাই মেয়েটির চরিত্র বলে দেয়নদী ছিল খুবই চঞ্চল প্রকৃতির স্রোত যেমন সকল বাধাকে অতিক্রম করে বয়ে চলে নদী ও ঠিক তেমনই ছিলোতার পরিবারে বাবা,মা ও ছোট ভাই ছাড়া কেউই নেইতারা ও ছিলো মধ্যবিত্ত পরিবার


রাফিন ও নদীর পরিচয় হয় ফেসবুকে তারা কেউ কাউকে দেখে নিকিন্তু দুই জনই দুইজনার জন্য পাগল প্রায় রাফিন সারাদিন মোবাইলটা নিয়ে বসে থাকে আর তার মায়ের বকা খায় মোবাইলের চার্জ শেষ হলে যায় কম্পিউটারে সারাদিনই নদীর সাথে চ্যাট করে রাফিন নদীকে অনেক বলত তার ছবি পাঠাতে কিন্তু নদী পাঠাতো না


রাফিনের সম্পূর্ণ নাম মোঃ আদনান ইসলামরাফিন বলে তাকে কেউই ডাকত নাশুধুমাত্র তার দাদা ছাড়াতাই এই নামে রাফিন সকলের কাছেই অপরিচিতরাফিনের দাদা রাফিনদের সাথেই থাকতওনার বয়স ৮০ এর কাছাকাছি তেমন বেশি কথা ও বলত নাসারাদিন শুয়ে থাকততার পরিবার এবং এলাকার সবাই তাকে আদনান বলেই ডাকতকিন্তু তার দাদার খুশির জন্য তার কাছে রাফিন নামটাই ভালো লাগত


ফেসবুকে রাফিনের ইউজার নেম দুরন্ত রাফিনকিন্তু রাফিনের কিছু প্রশ্নের উত্তর নদী কখনো দিতো না যেমনঃনদী তার আসল নাম নাকি নকল? তারা কোথায় থাকে? ইত্যাদিরাফিন শুধু জানত নদী রসায়নের উপর অনার্স করছে এবং দ্বিতীয় বর্ষে আর রাফিন গণিত নিয়ে শেষ বর্ষেনদী সবসময়ই রাফিনকে কনফিউশনের ভিতর রাখত তাই রাফিন নদীর পড়া লেখার বিষয়টা ও তেমন বিশ্বাস করতো না


রাফিন ছিলো খুবই সহজ,সরল নম্র প্রকৃতির তাই সে মনে করতো নদী যেমনই হোক যেইরকমই হোক সে শুধু নদীকেই ভালোবাসে এবং নদীকেই বিয়ে করবে


আদনান অর্থাত্‍ রাফিনের বড় ভাই ইমদাদ, রাফিনকে অনেক বলতো এইসব ছেড়ে দিতে কিন্তু রাফিন মানতো না রাফিন মনে করতো তার বড় ভাই তার সাথে হিংসা করেকারণ রাফিন সব সময় বলতো যে নদী, প্রথা থেকে ও সুন্দর সে এইটাও বলতো যে নদী সাথে প্রথার তুলনাই হয় না কিন্তু যখন তার পরিবার বলতো নদীর ছবি দেখাতে তখন সে বলতো যখন বাস্তবে দেখাবে তখনই দেখতে অন্যথায় নদীর প্রতি নাকি তার পরিবারের কৌতুহল কমে যাবেকিন্তু সত্য কথা তো রাফিন ও নদীকে কখনি দেখেনি


প্রথা রাফিনের বড় ভাইয়ের হবু স্ত্রী খুব শীঘ্রই তাদের বিয়ে হবে প্রথা দেখতে অনেক সুন্দর প্রথার চুল যেমন বড়,চোখ গুলো ও টানাটানা তাই রাফিন চায় নদী যেন প্রথা অর্থাত্‍ তার হবু ভাবী থেকে ও সুন্দর হয়


নদী,রাফিনকে একটা কথা বলেছে সেটা হল নদী ও রাফিনের মতো ঢাকায় থাকে তাই রাফিন,নদীর সাথে দেখা করার জন উন্মাদ কিন্তু তারা দুজন সময় মিলাতে পারে না আর নদী ও কেমন জানি সব সময় আড়ালে থাকতে চায়রা ফিন মাঝে মাঝে মনে করে নদীর কাছে মনে হয় তাদের এই রিলেশনশিপটা রাফিনের মতো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়কিন্তু পরে আবার রাফিন মনে মনে নিজেকেই বকে এমন উল্টা-পাল্টা চিন্তার জন্য সে নিজেক বোঝায় যে,তার মতো নদী ও তাকে অন্ধের মতো ভালোবাসে


অনেক বলার পর ঠিক ফার্মগেটে নদী,রাফিনের সাথে দেখা করবে  নদী নাকি সম্পূর্ণ লাল রঙে সেজে আসবেঅর্থাত্‍ তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত সবই থাকবে লাল,যেন রাফিনের চিনতে সহজ হয়


রাফিন সেদিন ফার্মগেটে নামল কিন্তু অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর ও সে লাল রঙের কাউকে পেল না হঠাত্‍ সে দেখল যে একটা সিএনজি থেকে লাল শাড়ি পড়া একজন নামল কিন্তু রাফিন শুধু তার পিছনের পাশটাই দেখতে পেল এখনই মুখটা দেখবে......................... 

হঠাত্‍ করে একটা হাবিলদার আমাকে খাবার দিয়ে গেলআমিই রাফিন আর লিখতে ভালো লাগছে না অনেক ক্ষিধে পেয়েছে আগে খেয়ে নেই


রাত দুইটা অথবা তিনটা বাজে রাফিনের হাতে একটা ছুঁড়ি সে তার হবু ভাবীর বাসায় সে প্রথার বেডরুমে ঢুকে প্রথার বুকে ও পেটে অনেকবার ছুঁড়ি মারলো প্রথা মারা গেছে রাফিন অনেকক্ষণ কান্না করলো নদী ও ছিলো অনেক সুন্দর.........................


হ্যাঁ এটাই বাস্তব লাল শাড়ি পরা মেয়েটি ছিল প্রথা আমার হবু ভাবী এতদিন তাকেই নদী ভেবে ভালোবেসেছি সেইদিন আমি ফার্মগেট ভাবীকে দেখে হতবাক কিন্তু কখনই ভাবিনী যে ভাবীই নদী হতে পারে ভাবীর কাছে গিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম "ভাবী এই জায়গায়?" ভাবী বলল তিনি নাকি তার এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে এসেছেন আমি বললাম "আমি ও তো" এই কথাটা বলে আমি হতবিম্ব হয়ে
গিয়েছিলাম কারণ ভাবী ও যে সম্পূর্ণ লাল রঙে সেজে এসেছিল


কালই আমি চলে যাবো ওপারে জীবন ও বাস্তবাকে বিদায় দিয়েকাল যে আমার  "মৃত্যুদন্ড"